ISBN: 98483091351

শেষের কবিতা

৳ 90.00

50 in stock

Compare

Description

শেষের কবিতা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

রবীন্দ্রনাথের শ্রেষ্ঠতম উপন্যাস ‘শেষের কবিতা’ ১৩৩৫ সালে প্রবাসীর ভাদ্র চৈত্র সংখ্যায় প্রথম প্রকাশ পায়।
উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র অমিতকে অংকিত করেছেন, কল্পনাবিলাসী, নির্লোভ এক সদা চঞ্চল যুবক হিসাবে। অপরদিকে কেন্দ্রীয় চরিত্র লাবণ্য ধীর স্থির, বাস্তবজ্ঞান সম্পন্ন। দু’জনেই দু’জনাতে মুগ্ধ, অনুরক্ত। অমিতের চঞ্চলতা আর স্পষ্টবাদিতায় মুগ্ধ হলেও অমিতের কাণ্ডজ্ঞানহীনতা শঙ্কিত করে তোলে লাবণ্যকে। অমিত আর লাবণ্যের পারিবারিক দূরত্ব অনেক। এক সময় লাবণ্য জানতে পারে কেতকী নামের মেয়েটির সাথে অমিত ভালোবাসার শপথ করার পরেও বিনা দ্বিধায় তাকে পেছনে ফেলে এসেছে। অমিত জীবনকে হালকাভাবে গ্রহণ করার প্রবণতায় লাবণ্যকে একসাথে পথচলার সিদ্ধান্ত পাল্টাতে বাধ্য করে। লাবণ্যর ব্যক্তিত্বের সাথে আপোষ করে অমিত কেতকীকে নিয়ে নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখে।
এক সময় শোভনলাল লাবণ্যর কাছে প্রেম নিবেদন করে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন। আত্মসচেতন, সংযম স্বভাবী যুবক শোভনলালকে জীবন সাথী হিসাবে যোগ্য মনে হয় লাবণ্যর।

অমিতের কথা তুলে ধরছি, ” যে ভালোবাসা ব্যাপ্তভাবে আকাশে মুক্ত থাকে, অন্তরের মধ্যে সে দেয় সঙ্গ ; যে ভালোবাসা বিশেষভাবে প্রতিদিনের সব কিছুতে যুক্ত হয়ে থাকে, সংসারে সে দেয় আসঙ্গ। দু’টোই আমি চাই।”
আবার অমিত বলেছেন, “রূপক দিয়েই বলতে হবে, নইলে এসব কথার রূপ চলে যায়-
কথাগুলো লজ্জিত হয়ে উঠে। কেতকীর সঙ্গে আমার সম্বন্ধ ভালোবাসারই, কিন্তু সে যেন ঘড়ায় তোলা জল-
প্রতিদিন তুলবো, প্রতিদিন ব্যবহার করবো। আর লাবণ্যর সঙ্গে আমার যে ভালোবাসা সে রইলো দিঘি, সে ঘরে আনবার নয়, আমার মন তাতে সাঁতার দেবে।”
এই অভিব্যক্তিটুকু প্রেমময় মানূষের কাছে বিশাল উপলব্ধি। এত শক্তিশালী উপমা সাহিত্যের ক্ষেত্রে বিরল বলে আমার মনে হয়। অনেকেই আছেন ‘শেষের কবিতা’ পড়েননি, কিন্তু এই কথাগুলো আত্মস্থ করেছেন।

লাবণ্যকে নিজের বিয়ের খবর জানাবার আগে অমিতের চিঠির অংশবিশেষ,
” আমার শূণ্যতা তুমি পূর্ণ করে গিয়েছো আপনি।
জীবন আঁধার হল, সেইক্ষণে পাইনু সন্ধান,
সন্ধ্যার দেউলীদ্বীপ চিত্তের মন্দিরে তব দান।
….
মিতা।

লাবণ্যর বিয়ের চিঠি যখন অমিতের কাছে পৌঁছালো সেই পরিবেশটা রবীন্দ্রনাথ এভাবে তুলে ধরেছেন, ” সেদিন কেতকী গেছে তার বোনের অন্নপ্রাশনে। অমিত গেল না। আরামকেদারায় বসে সামনের চৌকিতে পা’দুটো তুলে দিয়ে উইলিয়াম জেম্সের পত্রাবলী পড়ছে। এমন সময় যতিশংকর লাবণ্যর লেখা এক চিঠি তার হাতে দিল। চিঠির এক পাতে শোভনলালের সঙ্গে লাবণ্যর বিবাহের খবর। বিবাহ হবে ছ মাস পরে, জৈষ্ঠমাসে রামগড়পর্বতের শিখরে। অপর পাতে:
……
…..
হৃদয়- অঞ্জলি হতে মম
ওগো তুমি নিরুপম,
হে ঐশ্বর্যবান,
তোমারে যা দিয়েছিনু সে তোমারি দান-
গ্রহণ করেছ যত ঋণী তত করেছ আমায়।
হে বন্ধু বিদায়।”

বন্যা।”

রবীন্দ্রনাথের এই শক্তিশালী অভিব্যক্তি ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ আমার সাধ্যের বাইরে। তিনি অসাধারণ দু’টি চরিত্র চিত্রিত করেছেন, অমিত -লাবণ্য এক ছাদের নীচে বাস করতে না পারলেও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, ভালোবাসা অটুট, সমান্তরালে চলছে। গভীর প্রেম অনুভূতি খুব শৈল্পিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। অসাধারণ উপলব্ধি! এত অল্প কথায় ব্যক্ত করা অসম্ভব। উপন্যাসটি অবশ্যই কালজয়ী।

Reviews

There are no reviews yet.

Be the first to review “শেষের কবিতা”

Your email address will not be published. Required fields are marked *